২০২৩ সালে লক্ষীপুরের রামগতির কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহযোগিতার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু সহচরের, যেখানে ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে রেকোর্ডেড ক্লাস প্রদান করা হতো শিক্ষার্থীদের। ২০২৪ থেকে জুমে ক্লাস ১১-১২ এর পড়াশুনা শুরু করা হয় এইচএসসি-২৫-এর হাত ধরে। মূলত ২০২৪-এর জুলাইয়ে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে সহচরের সঙ্গে আমার পরিচয়। আমেরিকা প্রবাসী আমাদের বড় ভাইয়ের প্রচেষ্টায়, অর্থায়নে আমরা শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ১-ঘন্টার লেকচার জুমের মাধ্যমে প্রদান করে আসছি। আমাদের ব্যাচে বাংলাদেশের দূর-দূরান্তের ৩০-৩৫ জনের প্রতেক শিক্ষার্থীকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে পড়ানো হয় এবং তাদের পড়াশুনা কেন্দ্রিক সমস্যার সমাধান করা হয়।
প্রথম আলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, বিগত এসএসসি ২০২৫-এও সমগ্র লক্ষ্মীপুরে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল ছিল রামগতিরই। আমাদের একান্ত প্রচেষ্টায় আমরা এই এলাকার বাচ্চাদেরকে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, এই উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সুযোগ এবং বাণিজ্যিকীকরণের কারণে তারা যেন পিছিয়ে না পড়ে, সেই লক্ষ্যে বর্তমানে আমরা ক্লাস ৫ থেকে ১০-এর ১৫০+ শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছি। মূলত শিক্ষকদের কোচিং নির্ভর ক্লাস, স্কুলের লেকচার মানসম্পন্ন না হওয়া, বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, স্বজনপ্রীতি সহ বিগত কারিকুলামের কারণে হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের বেসিক দুর্বলতা হয়ে পড়েছিল। এছাড়াও, বিভিন্ন এড টেক এবং কোচিং-এর কোর্স ফি, ক্লাসের শিক্ষার্থী সংখ্যা বিবেচনায় প্রয়োজন ছিল সমস্যা সমাধানের সঠিক পথ। সেখান থেকেই আমাদের মূল ভ্যালু প্রপোজিশন যদি বলেন, কোয়ালিটি, যা আমাদের এই উপজেলার অনেক শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে প্রতিদিন। আমাদের লক্ষ্য এই হি স্কুলের শিক্ষার্থীদের ঢাকার বিভিন্ন কলেজ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যাত্রাটায় সাহায্য করা। এই উদ্যোগের ফলাফল যদি বলেন, এই এলাকার একটু স্কুলের প্রথম মেয়ে হিসেবে একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ বর্তমানে অধ্যয়নরত, যে কিনা সম্পূর্ণ পড়াশোনা আমাদের শিক্ষকদের কাছে বিনামূল্যে করেছে। ইন্টারনেটের কল্যাণে বাংলাদেশের ৪৯৫ উপজেলায় শিক্ষা পৌঁছে যাক কঠোর পরিশ্রমী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের কাছে। বর্তমানে আমাদের এখানে গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজি সহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রয়োজনে বিনামূল্যে অথবা নামমাত্র মূল্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় যেমন বুয়েট, রুয়েট, চুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর বর্তমান শিক্ষার্থীদের সান্নিধ্যে ক্লাস করার সুযোগ পায়।

শুধুমাত্র ক্লাস নয়, এছাড়াও সাময়িক ফোন, ইন্টারনেট এবং শিক্ষা উপকরণও আমরা আমাদের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উপহার দিয়ে আসছি। ২০২৫-এর জুনিয়র স্কলারশিপ পরীক্ষায় ৬ জন ট্যালেন্টপুল এবং ১০ জন জেনারেল বৃত্তি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ২০২৫ এবং ২০২৬-এর প্রাথমিক বৃত্তি ও ২০২৬-এর জুনিয়র স্কলারশিপ নিয়েও আমরা কাজ করছি। সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২১ নভেম্বর ২০২৫-এ আন্তর্জাতিক শিশু দিবসে আমরা
স্কুল অব ঘাসফুলের সাথে “ঘাসফুলেরদের মেলা”-এর আয়োজন করি টিএসসি সুইমিংপুলে যেখানে আমরা ৪০ জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিন বয়, পথশিশু, ফুল বিক্রেতাদের স্কুল ব্যাগ, স্টেশনারি বক্স, বই ও দুপুরের খাবার উপহার দিই। স্কুল অব ঘাসফুল একটি টিএসসি ভিত্তিক সংগঠন যারা বিভিন্ন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের ক্যান্টিন বয় ও পথশিশুদের বিনামূল্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ গড়ে তুলে। ঘাসফুলেদের মেলার পরই আমরা দেখতে পাই বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা হলে রেগুলার সেশন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে আমাদের শিক্ষা উপকরণের মাধ্যমে। এর পাশাপাশি রোকেয়া হল, ফজলুল হক মুসলিম হলেও ক্যান্টিন বয়েরাও শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে।

এছাড়াও পবিত্র মাহে রমজানে এবছর ২৬ ফেব্রুয়ারিতে আমরা মিরপুরের বেড়িবাঁধে ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের চাকার স্কুলের ৬০ জন শিক্ষার্থীর সাথে ইফতার করি। চাকার স্কুল বাংলাদেশের প্রথম মিডজিটাল মোবাইল স্কুল, যা ঢাকার মতো শহরের বস্তি ও প্রান্তিক শিশুদের লক্ষ্য করে তৈরি। প্রায়শই কাজ করতে বা ভিক্ষা করতে বাধ্য করা এই শিশুরা নির্যাতন এবং অবৈধ কার্যকলাপেরর ঝুঁকিতে থাকে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য, চাকার স্কুল তাদের জন্য শিক্ষা নিয়ে আসে, মজাদার শেখার অভিজ্ঞতা, নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার ও ত্রৈমাসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রদান করে। “Support our Healthy Meal Program” এই প্রকল্পের আওতায় আমরা ইফতার ভাগাভাগি করে নিয়েছি শিশুদের সাথে। আগামীতে এ সকল শিক্ষার্থীদের প্রাইমারি স্কুলিং শেষে পড়াশোনায় অগ্রসরের ক্ষেত্রেও সহচর ভূমিকা করতে আগ্রহী এবং এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষা নিয়ে কাজের পরিধি প্রতিস্থাপনে বদ্ধ পরিকার।

আমাদের বর্তমান লক্ষ্য আমাদের ১৫০ শিক্ষার্থীর মানসম্পন্ন ক্লাস প্রদান করা, এবং সে যাত্রায় আমরা বদ্ধপরিকর। এছাড়াও এক্সটেনশনের অংশ হিসেবে আমার বিভিন্ন স্কুলে যেখানে ডিজিটাল ল্যাব আছে, সেখানে আমাদের বিনামূল্যের ক্লাসগুলো পৌঁছে দিতে চাই যেন কারো স্কুলের বাইরে আলাদা সময়, টাকা ও শ্রম দিতে না হয়। বাংলাদেশের যেসকল উপজেলা পিছিয়ে আছে, তাদের পর্যন্ত পৌঁছানো এবং স্কুলগুলোতে ক্লাস ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আমরা পরিকল্পনা করছি। আসুন নিজেদের ফেলে আসা যে উপজেলার ভবিষ্যতের কথা ভাবি এবং আপনাদের আমাদের সাথে যোগাযোগের প্রয়োজন হলে এখনই ঘুরে আসুন https://sohochor.org/ অথবা মেইল করুন syedalfarabi@gmail.com-এ।